প্রযুক্তি সংবাদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ব্রাউজার যুদ্ধ ২০২০

সংক্ষিপ্ত ডেস্কটপ ব্রাউজার রিভিউ

ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যাপারে অনেকেরই একটি বিষয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকে, যেটি হল কোন ব্রাউজার সব থেকে নিরাপদ এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য। এ বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তরের আলোকেই এই সংক্ষিপ্ত ডেস্কটপ ব্রাউজার রিভিও।

অনেকে ব্রাউজার হিসেবে কোন যাচাই ছাড়াই ক্রোম বা ফায়ারফক্স ব্যবহার করে থাকেন। কারন এগুলো অনেক বেশি পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে ব্রাউজার দু’টি বেশ ভারী হবার কারনে দেখা যায় যে কম র‍্যামের ডিভাইস ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। রিভিউ টি সম্পূর্ন পড়লে ব্রাউজার সম্পর্কে এই ব্যাপারটি সহ আরো বেশ কিছু ব্যাপারে মোটামুটি ধারনা পাওয়া যাবে।

শুরু করা যাক মজিলা ফায়ারফক্স নিয়ে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী পুরো ইন্টারনেটের প্রায় অনেকটা জায়গা দখল করে আছে ফায়ারফক্স। ব্রাউজারদের ভেতরে বেশ ভাল অবস্থানে রয়েছে ফায়ারফক্স। ক্রোমের তুলনায় ফায়ারফক্সের জন্য কম পরিমাণে র‍্যামের দরকার হয়। অথচ ক্রোমের মত এর গতিও বেশ ভাল। তাই পুরাতন বা কম র‍্যামের ডিভাইসগুলির জন্য ফায়ারফক্সকে বলা যায় ‘লাইফসেভার’। অনেক বেশি পরিমান এক্সটেনশন ব্যবহার এবং কাস্টমাইজেশন ফায়ারফক্স কেও ভারী করে তুলতে পারে। তাই যারা বিভিন্ন কাজে অনেক বেশি পরিমানে ব্রাউজার ব্যাবহার করেন তাদের জন্য এগুলো ব্যবহার না করাই শ্রেয়।

তালিকায় ২য় অবস্থানে থাকলেও ইন্টারনেটের দুনিয়ায় প্রথম স্থানে রয়েছে গুগল ক্রোম। ইন্টারনেটে ব্রাউজার ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রতি ২জনে একজন ক্রোম ব্যবহারকারী দেখতে পাওয়া যায়। বিশাল ওয়েব স্টোর, থিম, কাস্টমাইজেশন, গুগলের দেওয়া সিকিওরিটি এবং আরো বেশ কিছু ব্যাপার ক্রোমের এই সাফল্যের কারন। কিন্ত অনেক ব্যবহারকারীর মতেই ক্রোম র‍্যামের ওপরে অনেক বেশি চাপ তৈরী করে। তাই কম র‍্যামের ডিভাইসের জন্য একটানা অনেক্ষন ক্রোম রান করা কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

এবার কথা বলা যাক মাইক্রোসফট এজ নিয়ে। মাইক্রোসফট এর বিল্ট ইন ব্রাউজার হিসেবে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এর স্লথ গতি থেকে মুক্তি দিতেই মাইক্রোসফট এজ এর আবির্ভাব ঘটে। এই জন্যে এটা ভাবলে ভুল হবে যে এই এজ আর এক্সপ্লোরার এর ভেতরে তেমন পার্থক্য নেই। যদিওবা অধিকাংশের মতেই মাইক্রোসফট যে চিন্তা করে এজ নিয়ে এসেছিল সেটি পরিপূর্ণ হয়নি, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এর তুলনায় এজ বেশ ভাল ইউজার এক্সপেরিয়েন্স দিতে পারে। যারা কম র‍্যামের ডেস্কটপ ব্যবহার করেন এবং থার্ড পার্টি ব্রাউজার ব্যবহার করতে নিরুৎসাহী, তাদের জন্য এটি বেশ ভাল সুবিধা দিতে পারে। যদিওবা, উপরোক্ত ব্রাউজার দুটির তুলনাই কম গতি এবং হোম পেজে নিউজ বিদ্যমান থাকার জন্য অধিকাংশ ব্যবহারকারী এজ এর ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নন।

এবার কথা বলা যাক এক সময়ের জনপ্রিয় ব্রাউজার অপেরা নিয়ে। প্রথমবার চালানোর মুহুর্তেই অপেরা স্টল সেট করে নেয়। এর স্প্ল্যাশ স্ক্রিনেই রয়েছে বিল্ট-ইন বিজ্ঞাপন ব্লকার চালু করার সুবিধা। সাথে রয়েছে বিল্ট-ইন ভিপিএন ব্যবহার করার সুবিধা। অতিরিক্ত হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য এর ক্রিপ্টো ওয়ালেটও চালু করা যায় অপেরাতে। এসবের জন্য নিঃসন্দেহে অপেরা অনেক ভাল অবস্থানে থাকে অনেক ব্যবহারকারীর কাছে। অবশ্য গেমারদের জন্য এর পরিবর্তে অপেরা জিএক্স ব্যবহার করা যায়। এটি গেমারদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এবং টুইচ ইন্টিগ্রেশন এবং রেজার ক্রোমা সমর্থনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ক্রোমের মত অপেরাও একটি ক্রোমিয়াম-ভিত্তিক ব্রাউজার, তাই এটিরও বেশ ভাল গতি রয়েছে এবং ক্রোম লাইব্রেরি থেকে অ্যাড-অনগুলি ব্যবহার করা যায়। এর নিজস্ব আরো কিছু আকর্ষণীয় ফিচার রয়েছে। যেমন ফ্লো, এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে যারা প্রায়শই ফিরে আসতে চান এমন জিনিসগুলি স্পট করে রাখে।

সর্বশেষ এমন একটি ব্রাউজার নিয়ে কথা বলবো যেটি খুব একটা পরিচিত না হলেও এর কাস্টমাইজেশন এবং অন্যান্য ফিচার এর জন্য এটি এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ব্রাউজারটির নাম ভিভালডি। প্রাক্তন অপেরা ডেভ্লপার দের তৈরী করা এই ব্রাউজারটি অপেরার মতো আলাদাভাবে কাজ করে। ভিভালদির শক্তিশালী দিক এর কাস্টমাইজেশন এবং নেভিগেশন। এটিও ক্রোমিয়াম বেইজড হবার কারনে ক্রোম এক্সটেনশন ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। তবে অন্যান্য ফিচার এ বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। এটিতে আপনি চাইলে সাইটগুলি সাইডবারে পিন করতে পারবেন। সাথে সাথে সেখানেই স্যুট টুলবারগুলি স্টিক করতে পারেন এবং পৃষ্ঠাগুলির ফন্ট এবং রঙিন স্কিমগুলি সামঞ্জস্য করতে পারবেন। একটি নোট প্যানেলের পাশাপাশি ব্রাউজিং হিস্টোরি এবং বুকমার্ক বিট রয়েছে। যারা কাস্টমাইজেশন পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি বেশ ভাল একটি পছন্দ হতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, ব্যবহারে এবং ব্যবহারকারীর ওপর ভিত্তি করে নির্ভর করে কোন ব্রাউজারটি আপনার জন্য সব থেকে ভাল হবে। তবে, এই তালিকায় যে কোন ব্রাউজারই হতে পারে আপনার জন্য সবথেকে বেশি উপযুক্ত। শুধু খেয়াল রাখতে হবে যে, কোন ব্রাউজারই সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারবেনা যদি ব্যবহারকারী এমন কোন ব্রাউজিং সাইট ব্যবহার করেন যেটি নিরাপদ নয়। এই জন্য, নিজের প্রাইভেসির কথা মাথায় রেখেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হবে। সাথে সাথে যারা অনেক পুরাতন কিংবা কম র‍্যাম সংযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করেন তারা কাস্টমাইজেশন অথবা এক্সটেনশন কম ব্যবহার করাই ভাল। পরবর্তী সময়ে এক্সটেনশন এবং কাস্টমাইজেশন নিয়ে পূর্নাঙ্গ আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

এ সম্পর্কিত আরও পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button
Close
Close